লেপচাজগৎ Lepchajagat r Megh Muluk
মেঘ মুলুকে
বর্ণালী রায়
বাইরের তাপমাত্রা ৭ডিগ্রী তে নেমে গেছে।প্রচণ্ড বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়া।পাশাং র বাড়ির ছাদের
ঘরে বসে দেখছি জয় মাতাদি লেখা পতাকা আর বুদ্ধিস্ট ফ্ল্যাগটা এত জোড়ে জোড়ে হাওয়ায় উড়ছে
যেন মনে হচ্ছে বাইরে প্রলয় হচ্ছে,ঘরে বসে তার কিছুটামাত্র আন্দাজ করতে পারছি।গতকাল এসে পৌঁছেছি
লেপচাজগৎ এ।
এর উচ্চতা ৬৮০০ফুট।শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাবার রাস্তায় ঘুম থেকে একটা রাস্তা চলে গেছে মিরিকের দিকে।সেই পথেই ৮কিলোমিটার পথ পেরোলেই লেপচাজগৎ।পাহাড় আর পাইনের জঙ্গলঘেরা ছোট্ট একটা পাহাড়ি গ্রাম। মাত্র ৪০/৫০ ঘর মানুষের বাস।বেশিরভাগই তামাং, দু এক ঘর রাই, আর ছেত্রী।
স্থানীয় মানুষেরা বলে , বহু আগে এখানে শুধু লেপচা জন জাতির মানুষের বাস ছিল।সেই থেকে এর নাম লেপচা জগৎ।
পাহাড়ের উচ্চতা জনিত কারনে চাষবাস বেশি হয় না।কেউ কেউ শহরে যায় কাজ করতে।কাছের শহর বলতে সুখিয়া,দার্জিলিং, মিরিক,কার্শিয়ং।সব জায়গাগুলোর সাথেই লেপচাজগৎ এর যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ ভালো। ইদানীং
টুরিস্ট যাতায়াত বাড়ার জন্য এখানকার মানুষ অনেকাংশে পর্যটনের উপর নির্ভরশীল হয়েছে।হোটেল,হোমস্টে,
মোমোর দোকান,গাড়ির ব্যবসা এসব কাজের চাহিদা বেড়েছে।
এখানে সরকারি ফরেস্ট বাংলো রয়েছে । আর আছে বেশ কয়েকটি হোমস্টে।আমরা উঠেছি কাঞ্চন কন্যা হোমস্টে
তে। পাশাং তামাং আর তার পরিবারের বাড়ি। দুই ছেলে,এক মেয়ে, স্ত্রী, বৃদ্ধা মা কে নিয়ে সংসার পাশাং তামাংএর।বাড়িতে হোমস্টে খোলার পর থেকে পাশাং এর পুরো পরিবারই অতিথিদের সেবা করে চলেছে। নিজের
হাতে সাজিয়েছেন সবাই মিলে।ঘর বানানো, ডেকোরেশন সব নিজেরা।সকাল সকাল পৌঁছে দেখি পাশাং আর
ওর ছোটমেয়ে বিনিতা ছাদের নতুন ঘর দুটো সাজাতে ব্যস্ত। ঘরের বিশাল কাঁচের জানালায় তখন পর্দা লাগানোর কাজ চলছে।আমরা ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়েছি দেখে বাবা মেয়ে হেসে বলল,"কার্টেন কা কালার আচ্ছা হ্যায় না ম্যডাম।"পড়ে শুনলাম বাবা আর তিন ছেলে মেয়ে মিলে দুদিন ধরে কাঠের এই ঘর দুটো বানিয়েছে।অতিথির সংখ্যা বাড়ায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করে ।
ওরা কাজ সারার ফাঁকে এসে দাঁড়িয়েছি ছাদের রেলিং এর ধারে।এক পাকা রাস্তা একে বেঁকে মিলিয়ে যাচ্ছে।
রাস্তার দু ধার ঘেঁষে পাইনের জঙ্গল। আর দেখলাম থেকে থেকেই হঠাৎ কোথা থেকে গোছা গোছা মেঘ ভিড়
করে আসছে গাছের মাথায়।আবার হঠাৎ উধাও হয়ে চারিধার ঝকঝকে। পরিযায়ী পাখির দল যেমন ভিড় করে
গাছের মাথায়,আবার উড়ে যায় অন্য গাছে,ঠিক তেমনিই মনে হচ্ছিল।
পাশাং এর সব কিছুতেই আছে আন্তরিক ছোঁয়া।সবথেকে অবাক হয়েছি এটা দেখে যে সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং
কলেজে লপাঠরত পাশাং এর বড়োছেলে মনোজ তামাং যখন অতিথি সেবা করছে বিনিতভাবে।রান্না করা,বাসন মাজা,ঘর পরিষ্কার সব কাজই পরিবারের লোকজন মিলে মিশে করে।মধ্যবয়সী পাশাং এর ব্যবহার বারবার মুগ্ধ করে।
সকালের লুচি, সব্জি খেয়ে বেড়িয়ে পড়লাম ভিউ পয়েন্ট দেখতে।
গ্রামের বাড়িঘরের মাঝখান দিয়ে চলে গেছে একটা সরু এবড়ো খেবড়ো রাস্তা।গ্রামের রাস্তায় হাঁস মুরগি ঘোরা ফেরা করছে,লংকা, আচার শুকোতে দেওয়া।একটু এগোতেই দেখতে পেলাম বড় বড় পাইন গাছের সারি।সাদা রঙের বুদ্ধিস্ট ফ্ল্যাগগুলো পতপত করে হাওয়ায় উড়ছে।হঠাৎ মনে মনে ভাবলামএই গ্রামে শান্তির বাণী ছড়িয়ে দিয়ে তা কি শহরের
অলিগলি তে কি আদৌ পৌঁছাচ্ছে?নাকি দুরত্বটা বড্ড বেশি।
ভিউ পয়েন্টে পৌঁছে দেখি চারিধারটা একধরনের বুনো সাদা ফুলে ভর্তি।ঝাঁকে ঝাঁকে মুক্তো একসাথে।যেন
মনে হচ্ছে মুক্তোর চাষ হয়েছে।নীচে পাহাড়ি গ্রাম,আকাঁবাঁকা নদীপথ বারবার মেঘে ঢেকে যাচ্ছে।ছবি তুলে নেমে
এলাম।
ঠিক হল দুপুরে খাওয়ার পর মনোজ আমাদের নিয়ে যাবে ঘুম রক দেখতে।
এত ঠাণ্ডা যে জল হাতে ধরলেই মনে হচ্ছে আঙুল কেটে যাচ্ছে।স্নান করবো না করবো না ভাবছি দেখি বিনিতা
গরমজলের বালতি নিয়ে হাজির।বাঁধাকপির সব্জি,মুসুরির ডাল,ডিমের ডালনা,পাঁপড় ভাজা দিয়ে পেট ভরে
খাবার খেলাম।ক্যমেরা নিয়ে নিচে এসে দেখি ততক্ষনে মনোজ একটা লাঠি আর একটা কুকরি নিয়ে রেডি।আমি জানতে
চাইলাম এটা দিয়ে কি হবে?
ও বলল,"জঙ্গল হ্যায় না,সাফ করতে করতে ঘুস না পড়তা হ্যায়।"
দুপাশে পাইনের জঙ্গল মাঝের চওড়া পাকা রাস্তা ধরে আমরা এগোচ্ছি।
দূর থেকে একটা লম্বা ছেলে কে দেখে
আমি বলে উঠলাম, "আরে ফুটবলার রুটগুলিট না!"
আমার কথায় স্বভাব শান্ত মনোজ হেসে ফেলে বলল,ও মেরা ছোটা
ভাই বিনোদ হ্যায়।"
আমরা দুজনেই খুব হাসলাম।সত্যি পাহাড়ের ছেলে মেয়েরা জন্মগত স্টাইলিশ, এ আমার বরাবরের ঈর্ষা।
এক দেড় কিলো মিটার রাস্তা।
হেঁটে পৌঁছে গেলাম জঙ্গলের রাস্তায়।চারিদিকে কুয়াশায় ঢেকে গেছে।পাইনের জঙ্গলে যেন অন্ধকার নেমে
এসেছে।আমার মনে হল যেকোন ভৌতিক সিনেমার আদর্শ শুটিং স্পট।
মনোজ আগে আগে আমরা ওর পিছন পিছন।কাটা ঝোপঝাড় থেকে বেশ বড় বড় শ্যাওলাধরা গাছের জঙ্গল।একটা গাছে দেখলাম লাল রঙের বুনো স্ট্রবেরি হয়ে আছে।এমন এমন ফুল,পাতা যা কোনোদিন চোখেই দেখিনি।আর আছে আকাশ ছোঁয়া পাইন গাছ।মেঘগুলো গাছের মাথায় পাখিরমতো এসে বসেছে।
"আ:!উফ!"
কাঁটার খোঁচায় জ্যাকেট টা ছিড়েই গেল।মনোজ যতটা পারছে ডাল কাটতে কাটতে হাঁটছে।একটা জায়গায় গিয়ে থামতে হল।দুটো পা এক সাথে ফেলে এগোনোর উপায় নেই।আবার আগের দিন বৃষ্টি হয়েছে,তাই মাটি ভেজা।যে কোনো সময় পা স্লিপ খাবে।একটা সরু গাছকে ভর করে এক এক পা দিয়ে মনোজের দেখানো পথ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।বুনো ফুলের গন্ধে চারিপাশ টা মো মো করছে।নানা রঙের প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে।
মানুষের এই পথে এএকদমই যাতায়াত নেই।তাই মাটির উপরে কোনো রাস্তা তৈরি হয় নি বা কাঁদায় পায়ের
ছাপও পাওয়া যাচ্ছে না।এমন কি মাকড়সার জাল গুলো ও ছিঁড়ে ছিঁড়ে এগোতে হচ্ছে।এক সময় একটা বিশাল গোলাকার পাথরের সামনে এসে দাঁড়ালাম। এটাই ঘুম রক।
দেখে ভালো লাগলো যে এখনো এখানে কেউ নিজের নাম বা প্রেমিকার নাম খোদাই করে নি।নইলে কোন স্মৃতি সৌধ হোক বা পার্কের বেঞ্চ খোদাইচিত্র দেখে দেখে লজ্জাবোধ হয়।
মনোজের কাছেই শুনলাম আরেকটু এগোলেই একটা ভিউ পয়েন্ট আছে,আর আরেকটু উপরে আছে ব্রিটিশ আমলের একটা হাওয়ামহল।
এদিকে চারিদিন মেঘ আর কুয়াশাতে ঢেকে গেছে।কতটা যেতে পারবো জানি না।ভিউ পয়েন্ট পর্যন্ত পৌঁছানো
গেল।বহু পুরানো লোহার রেলিং দিয়ে ঘেরা একটা জায়গা।এখন যদিও জায়গাটা খুবই অপরিচ্ছন্ন।আগাছায় ভরে গেছে।লোহার রেলিং মরচে ধরেছে।মনোজ বলল,"ব্রিটিশ ও কা ফেভারিট প্লেস থা।"
আমার একবার মনে হল যেন,এখানে কোনা এক শুভ্রবসন সুন্দরি বিদেশিনী অপেক্ষা করতেন তার লেপচা প্রেমিক পুরুষের জন্য।অপূর্ব সুন্দর একটা জায়গা,যেখান থেকে অনেকটা দূর পর্যন্ত দেখা যায়।দূরের পাহাড়,নদী,জঙ্গল।যদিও এখন মেঘ ঢেকে আছে সবটা ।
আমার কল্পনায় জল ঢেলে মনোজের পরামর্শে ফেরার পথে পা বাড়ালাম। আসলে যে কোন সময় বৃষ্টি
নামবে।ঘন অন্ধকার হয়ে আসছে হাওয়ামহল দেখা হল না।
মন খারাপ নিয়ে নেমে এলাম।ফেরার পথে মোড়ের দোকানে কফি আর মোমো খেয়ে দু:খটা একটু পুশিয়ে নিলাম।
মনের মধ্যে একটা আফসোস কাজ করছে।কি জানি কি ইতিহাস লুকিয়ে আছে হাওয়ামহলের গায়ে।
বৃষ্টি নেমেছিল খুব, আর হাওয়াও দিচ্ছিল খুব জোরে।এখন আবার সব পরিষ্কার ঝকঝক করছে।
রোদের ঝিলিকও দেখা দিয়েছে।
আমি ভাবলাম এই সুযোগ। মনোজকে নিয়ে হাওয়ামহলটা ঘুরেই আসি।কাল আর সময় হবে না।ঘর থেকে নিচে
এসে মনোজের খোঁজ করলাম।বিনিতা বলল,ও বাজারে গেছে।আমার আবার মনটা খারাপ হয়ে গেল।এদিকে সন্ধ্যে হয়ে গেলে আর যাওয়া যাবে না।তাই নিজেই একটা লাঠি নিয়ে জঙ্গলের
পথে পা বাড়ালাম।
কিছুক্ষণ আগের বৃষ্টিটাতে মাটি আরো পিছল হয়ে গেছে।স্যাঁতসেঁতে জঙ্গল দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।ভয় ভয় করছে।কাজটা ঠিক হল তো।ঝড়ে দেখলাম কিছু গাছ ভেঙ্গে পড়েছে।
বাঘের ভয় না থাকলেও চিতার ভয় আছে।একবার ভাবলাম ফিরে আসি।পিছন ফিরে তাকাতেই
প্রাণপাখি উড়ে গেল।একি রাস্তা কোথায়? চারিদিকে ঘন জঙ্গলের মাঝে আমি একা।সামনে পিছনে
কোনো রাস্তাই নেই।কিন্তু কিভাবে সম্ভব।
আমার স্পষ্ট মনে আছে,এই পথেই মনোজ নিয়ে এসেছিল।ভয়ে হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে।হাত ঘড়িতে দেখলাম পাঁচটা পনেরো।এক্ষুনি আধার নামবে।
আমি কি করবো এখন?
লাঠি দিয়ে গাছপালা ঠেলে এগোনোর চেষ্টা করলাম।কাঁটার খোঁচাতে হাত পা
ছড়ে গেল।রক্ত ঝরছে চিৎকার করছি প্রাণপন।কিন্ত একেই জনবিরল জায়গা তাতে ঘন জঙ্গল,কে আসবে।
আজ মৃত্যুর মুখোমুখি। কান্না আর অসহায়তা ছাড়া আমার সামনে পিছনে কোনো পথই নেই।
প্রচণ্ড একটা ঝাঁকুনি!
ধড়মড় করে উঠে বসেছি।৮ডিগ্রী তাপমাত্রাতেও দড়দড় করে ঘামছি।
সেই এসে তো ঘুমিয়ে পড়েছি।বৃষ্টি এখনো থামেনি।স্বপ্ন দেখে এমন চিৎকার জুড়েছি যে পাশাং ছুটে এসেছে নীচ
থেকে।নিজের কান্ডে নিজেই লজ্জায় লাল।
এক কাপ চা খেয়ে মেজাজ ফেরাতে বাইরে এসে দাঁড়াতেই দেখলাম মনোজ সুকিয়া যাচ্ছে বাজারে।ওর বাইকের পিছনে চেপে গেলাম।লেকটা নইলে অদেখা থেকে যেত, হাতে টাইম নেই আর।
লেক দেখে,দোকান বাজার করে ফিরে এসেছি আধঘন্টা হবে।ফ্রেস হয়ে হাত ঘড়িতে দেখলাম রাত আট টা। ক্লান্ত,বিধ্বস্ত লাগছে নিজেকে।এবার খেয়ে একটা ঘুম দিতে হবে।
পরদিন ভোর চারটে নাগাদ দরজার কড়া নাড়ার আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেল।পাশাং বলল,আকাশ পরিষ্কার,সূর্যোদয় দেখতে হলে এখনি বেড়তে হবে।
কোনোরকমে জ্যাকেট, মাফলার পরে ক্যামেরা নিয়ে অন্ধকারের মধ্যেই হাঁটা দিলাম।
ভিউ পয়েন্ট থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা খুব কাছাকাছি পরিষ্কার দেখা যায় শুনেছি।প্রায় এক কিলোমিটার পথ। পৌঁছে
দেখি কয়েকজন আগেই চলে এসেছেন।ক্যামেরা হাতে অপেক্ষা করছে সবাই।
এতবার দেখেছি,তবু আবার দেখার আঁশ মেটে না।আকাশের রঙ বদলাচ্ছে। ধূসর, গোলাপি, লাল,কমলা আর সব শেষে নীল।দূরে কখনো সোনালি আবার কখোনো রূপালী আভা দেখা যাচ্ছে।একটু একটু করে পরিষ্কার হচ্ছে আকাশ। কি অপূর্ব সেই দৃশ্য।
একদিকের পাহাড়ে সূর্য উঠছে আর অন্য দিকের বরফের পাহাড়ে
পসেই আলো পড়ে ঝলমল করে উঠছে।নীল আকাশের মাঝে ভেসে উঠেছে রূপালী কাঞ্চনজঙ্ঘা।
আরে এত দিন শুনেছি,আজ প্রথমবার দেখলাম পূর্ণাবয়ব শায়িত বুদ্ধ।সত্যি কি আশ্চর্য! মাথা,নাক,মুখ,শরীর,পা-
-----সত্যি কেউ যেন শুয়ে আছে।তিনি বুদ্ধদেব কিনা জানা নেই। তবে এত শান্ত, সমাহিত ভঙ্গি কার হতে পারে।
মনে হচ্ছে কেউ যেন দোয়াতে করে নীল কালি আকাশের গায়ে ঢেলে দিয়েছে কেউ,আর তার মাঝেই শুয়ে
আছেন শ্বেতশুভ্র বসন কোনো এক যোগী পুরুষ।
ক্যামেরার লেন্স বন্ধ করেছি বহুক্ষণ। ভিউ পয়েন্ট ফাঁকা।চেয়ে আছি অসীমতার দিকে।আর
বুদ্ধের বাণী লেখা সেই সাদা পতাকা গুলো উড়ছে। সেই হাওয়া ছুঁয়ে যাচ্ছে শরীর মন।
কাল রাতে যে অসহ্য মানসিক যন্ত্রণা,মৃত্যু ভয় তাড়া করছিল আজ সব ভ্যানিশ হয়ে গেছে।
বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি
ধম্মং শরণং গচ্ছামি












Comments
Post a Comment