Posts

Premer Pahar Tawang : Nurnang Falls

Image
  প্রেমের পাহাড় তাওয়াং বর্ণালী রায়   "এখন আমি একটা পাহাড় কিনতে চাই।  সেই পাহাড়ের পায়ের কাছে থাকবে গহন অরণ্য, আমি সেই অরণ্য পাড় হয়ে যাবো..... ....একেবারে চূড়ায় মাথার খুব কাছে আকাশ, নীচে বিপুলা পৃথিবী চড়াচড়ে তীব্র নির্জনতা।" সুনীল গাঙ্গুলি তাঁর কলমের যাদুতে যে পাহাড় কিনতে চেয়েছিলেন,আমিও তেমন বারবার ফিরে যাই পাহাড়ের কাছে,কিনতে না পারি তার সৌন্দর্য আমাকে চুম্বকের মতো টেনে নিয়ে যায়।সেইরকমই এক পাহাড় অরুণাচল।আজ কিন্তু আমারা  অরুণাচলের একটু অন্যরকম গল্প শুনব। এ গল্প ভালোবাসার গল্প,এ গল্প দেশ প্রেমের গল্প।যে ভালোবাসার সৃজনে আজকের টুরিস্ট হটস্পট অরুণাচলের সেলা পাস,নুরনাং জলপ্রপাত।  দিরাং থেকে তাওয়াং যাওয়ার গোটা  রাস্তাতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার সাথে সাথে ছড়িয়ে আছে ভালোবাসার ছাপ।আসামের জিয়াভরলি এখানে এসেই কখনো কামেং নদী,কখনো দিরাং নদী। এখানে গোটা পথে তার দেখা মেলে এক চঞ্চলা চপলা মেয়ের বেশে।দূরের পাহাড়ের গায়ে আটকে থাকা দলা পাকানো মেঘেদের রূপ দেখে মাঝেমধ্যেই ভাবছি বোধহয় ক্যানভাসে আঁকা কোনো ল্যান্ডস্কেপ।   দিন টা ছিল ১৭ নভেম্বর, ১৯৬২। নতুন সূর্যের আভা পূর্ব ...

শিকড় ব্রিজের সন্ধানে : Double Decker Root Bridge

Image
শিকড় ব্রিজের সন্ধানে                        বর্ণালী রায় “কিড়ালু সে বঁচকে রহেনা ম্যাডাম”।  হলিউডের সিনেমাকেও হার মানায় সেই সব লাল লাল পোকা। ডংজনের কথায় কিড়ালু। এক কামড়ে নিশ্চিতমত্যু।  শিকড় ব্রিজের সন্ধানে এসে না সমাধিস্থ হতে হয় ! বাড়ি থেকে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে মেঘালয়ের এই গভীর জঙ্গলে।  এবার শিলং আসার একটা বিশেষ কারণ আছে। এবার এসেছি ‘শিকড় ব্রিজের’ সন্ধানে। শুনেছি ভারতে যে ক’টা জীবন্ত বিস্ময় আছে তার মধ্যে মেঘালয় রাজ্যের লেটকিনসিউতে একটা আছে। সেটা হল শিকড়ের তৈরি ব্রিজ ‘ডবল ডেকার রুটব্রিজ’। শিলং থেকে চেরাপুঞ্জি হয়ে লেটকিনসিউ যেতে হয়। প্রায় ৫৪ কিলোমিটার পথ। এর উচ্চতা ১৩০০ মিটার। শিলং থেকে চেরাপুঞ্জি যেতে আমাদের সময় লাগল মোটামুটি ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। রাস্তা খুব খারাপ। পথে নানা জায়গায় পাহাড় কাটা হচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার পাহাড় ভেঙে রাস্তা তৈরি হচ্ছে। যেখানে সেখানে ধস নেমেছে। রাস্তায় ছোট বড় এবরো-খেবরো পাথরের ছড়াছড়ি। সব মিলিয়ে দুর্বিসহ পরিস্থিতি। চারিদিকের সবুজ গাছপালা ধুলো মেখে সাদা হয়ে আছে। জলের পা...

লেপচাজগৎ Lepchajagat r Megh Muluk

Image
                                                      মেঘ মুলুকে বর্ণালী রায়                                                       বাইরের তাপমাত্রা ৭ডিগ্রী তে নেমে গেছে।প্রচণ্ড বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়া।পাশাং র বাড়ির ছাদের ঘরে বসে দেখছি জয় মাতাদি লেখা পতাকা আর বুদ্ধিস্ট ফ্ল্যাগটা এত জোড়ে জোড়ে হাওয়ায় উড়ছে যেন মনে হচ্ছে বাইরে প্রলয় হচ্ছে,ঘরে বসে তার কিছুটামাত্র আন্দাজ করতে পারছি।গতকাল এসে পৌঁছেছি লেপচাজগৎ এ। এর উচ্চতা ৬৮০০ফুট।শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাবার রাস্তায় ঘুম থেকে একটা রাস্তা চলে গেছে মিরিকের দিকে।সেই পথেই ৮কিলোমিটার পথ পেরোলেই লেপচাজগৎ ।পাহাড় আর পাইনের জঙ্গলঘেরা ছোট্ট একটা পাহাড়ি গ্রাম। মাত্র ৪০/৫০ ঘর মানুষের বাস।বেশিরভাগই তামাং, দু এক ঘর রাই, আর ছেত্রী। স্থানীয় মানুষেরা বলে , বহু আগে এখানে শুধু ল...

Chandipur to Kasafol Beach Trekking

Image
চাঁদিপুর টু কাসাফল : বিচ ট্রেকিং     বর্ণালী রায় সবাই পাহাড় চড়ে, আমরা গেছিলাম এবার সমুদ্র চড়তে।হা হা হা! বুঝলেন না তো বন্ধুরা! আসলে সব ফিল্ডেই তো নানা রকম পরীক্ষা নিরিক্ষা চলছে,টুরিজমেও এইসব পরীক্ষা নিরিক্ষা  করছে একদল ভ্রমণ পাগল মানুষ।সেই সূত্রেই এখন একটা নতুন ট্রেন্ড 'বিচ ট্রেকিং'।ব্যাকপ্যাকারস দলের সদস্যরা এইরকমই একটা বিচ ট্রেকিং এর আয়োজন করেছিল কদিন আগেই।আমি সাধারণত ট্যুর দলের সাথে বেড়াতে যেতে চাই না।আমার মনে হয় কোথাও যেন একটা স্বাধীন ছন্দে পতন।যা হোক এবারের হাতছানিটা ছিল একটু  আলাদা।২২ জন অজানা আদেখা অপরিচিত মানুষের সাথে একটা রাত,১৪ কিলোমিটার বিচ ধরে ধরে হাঁটা(কাঁদা মাটি,বালি,জল,শামুখ,কাঁকড়া কি নেই সে পথে),নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে টেন্টে রাত্রিযাপন । সবটা শুনে কেমন যেন লোভ  হল । হিসেব করে দেখলাম রাতটা জোৎস্নারাত।চুম্বকের মতো টানে হ্যাঁ করে দিলাম।যেই বলা  সেই কাজ।টাকা এডভান্স করার পরে মাথায় এল বালাসোর অব্দি ট্রেনের টিকিট কাটতে হবে যে।কিন্তু দোলের দিন কিভাবে বালাসোর অব্দি ট্রেনের টিকিট পাব আমি সাতদিন আগে?মগের মুলুক হলেও পেতাম, কিন্তু...

Barshajapan e Chilapata Mendabari r Jangol

Image
বর্ষাযাপনে চিলাপাতার (মেন্দাবাড়ি)জঙ্গলে বর্ণালী রায়  ঘড়িতে সবে সন্ধ্যা সাতটা।বাইরে তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়েছে।ঘুটঘুটে অন্ধকার।কটেজের ছাদে এত জোড় শব্দ হচ্ছে যেন মনে হচ্ছে ইট,পাটকেল ছুঁড়ে মারছে কেউ।তার উপর ঘনঘন বাজ পড়ছে। শুনশান কটেজ।একটা ঘরে আমরা দুজন,অন্য ঘরে তালা মারা।সঞ্জয়ও তাড়াতাড়ি রাতের খাবার ঘরে দিয়ে ঘুমোতে চলে গেছে।ব্যালকনিতে ঝুলানো হ্যারিকেনটা হাওয়ায় এত জোরে দুলছিল যেন মনে হচ্ছিল এই পড়ে ভেঙে যাবে।আমি হ্যারিকেনটা নিভিয়ে দিলাম। ঘরে শুধু দুটো মোমবাতি জ্বলছে।দক্ষিণের জানালাটা সেই থেকে হাওয়ায় খুলছে আর বন্ধ হচ্ছে।বৃষ্টিরর ছাট এসে মুখে হাতে গায়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে।মন্দ লাগছে না।নানান গানের সুর সেই থেকে মনে পাক খাচ্ছে।এই যেমন ধরুন..."এই ঝড় ঝড় মুখর বাদল দিনে...."কিংবা "এমন দিনে তারে বলা যায়..."।নেহাত গলায় সুর নেই নইলে এমন পরিবেশে গান গাওয়াটা বা পাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আমরা আজ সকালে এসে পৌঁছেছি মেন্দাবাড়ি জঙ্গল ক্যাম্পে। চিলাপাতার জঙ্গল দেখতে এসেছি।এই জঙ্গলটা একটু অন্যরকম। একদিকে জলদাপাড়া ওয়াইল্ড লাইফ স্যাঞ্চুয়ারী অন্যদিকে বক্সা টা...