কিন্নরের দেশে
কিন্নর কিন্নরীদের দেশে
@Barnali Roy
চারমাস আগে থেকে কেটে রাখা সাধ্যসাধনার আজ মোক্ষ লাভ।মোক্ষলাভ নয় এক ট্রেনের টিকিট কাটতে তিন
দিন তপস্যা।লিস্টে নাম লেখো রে,পরদিন সকাল থেকে ধরনা দাও রে,কনফার্ম করো, রাত জাগো ইত্যাদি
ইত্যাদি।যদিও এগুলো আইন নয়,তবু সভ্যসমাজের আইনের বাইরেও আইন থাকে।
যা হোক বদ্ধ গরম থেকে দুদিন ঠান্ডা মেশিনের হাওয়া খেতে খেতে পৌঁছে গেলাম কালকা।ঘড়িতে তখন
ভোর ৪.৩০।ট্রেন থেকে নেমে বেশ ঠাণ্ডা লাগল।ব্যাগ থেকে সোয়েটারটা বের করে গায়ে দিলাম।এক কাপ গরম
চায়ে চুমুক দিয়ে লাগেজ নিয়ে ছোট ট্রেনের স্টেশনে পৌঁছালাম।আগে থেকে বুকিং করা শিবালিক
এক্সপ্রেসে চেপে বসলাম।শুরু হল রাজকীয় টয়ট্রেন যাত্রা।কু ঝিক ঝিক সুরে শুয়ো পোকার মতো এঁকে বেঁকে
চলেছে সে।জানালার ধারের সিটে বসে আমি একটু একটু করে পাহাড়িয়া গ্রামের ঘুম ভাঙা দেখছি।পাহাড় কেটে
তৈরি সরু একফালি লাইন বেয়ে সবুজ জঙ্গলের ধার ঘেঁষে, ছোট ছোট ঝুপসি বাড়িঘরের উঠোন দিয়ে প্রায়
সাড়ে পাঁচ ঘন্টা সফর শেষে এসে পৌঁছালাম সিমলা।
আমাদের মূল গন্তব্য কিন্নর। কিন্তু দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি কাটাতে, আজকের দিনটা সিমলায় থাকবো বলে ঠিক
করলাম।বিশ্রাম নিয়ে,সিমলা ম্যাল,কালিবাড়ি ঘুরে দিন টা বেশ কেটে গেল।পরদিন লুচি আর আলুর দম দিয়ে
জলখাবার সেরে একটা গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম সারহানের পথে।সারহান কে কিন্নরের প্রবেশ দ্বার বলা
হয়।পথে যদিও ফাগু, কুফরি পড়েছিল কিন্তু এবার আর ওদিকে সময় না দিয়ে গাড়ি ছুঁটে চলল সারহানের
দিকে।সিমলা রিজার্ভ ফরেস্টের একটা অংশ যেটাকে গ্রীন ভ্যালী বলে স্থানীয় মানুষজন।চলতি পথে গাড়ি
থামিয়ে মুগ্ধ হয়ে দেখলাম সবুজের খেলা,আলো আর ছায়ার লুকোচুরি। নারকান্ডা,রামপুর পেরিয়ে পাহাড়ের
গা বেয়ে এগিয়ে চলেছি এক একটা জনপদ পিছনে রেখে।শতলুজ নদী ততক্ষনে আমাদের সাথি হয়েছে।
নদীটা কখনো পাশে পাশে,কখনো দূরে এক চিলতে রেখার মতো। কোথাও প্রবল খরস্রোতা,কোথাও নুড়ি
পাথরের ফাঁকে ফাঁকে তির তির করে বইছে।পাহাড় গুলো এমনভাবে কেটে কেটে রাস্তা করা দেখে মনে হচ্ছে
একটা হা করা মুখের মাঝখান দিয়ে গাড়ি গুলো যাচ্ছে।পাহাড় আর নদীর এই বৈচিত্র্য দেখতে দেখতে পৌঁছে
গেলাম ১৬৩ কিমি রাস্তা পেরিয়ে সারহান।
পুরানে শোনিতপুর নামে এই সারহানের উল্লেখ পাওয়া যায়।আগে একে সারহান বাসহাহার(sarahan
Bushahr)বলা হত।বাসহাহার বংশের গ্রীষ্মকালীন আবাস এটি।আর শীতকালীন আবাস ছিল রামপুর।সারহান
বিখ্যাত ভীমাকালী মন্দিরের জন্য।এটি ৫১পিঠের অন্যতম একটি পীঠস্থান। এখানে হিমালয় কন্যা দেবী পার্বতীর
মন্দির ছাড়াও রঘুনাথ মন্দির,নরসিংহ মন্দির,পাতাল ভৈরবীর মন্দির আছে।বাসহাহার রাজাদের বংশের মন্দির
এটি।পাথর, কাঠ দিয়ে তৈরি হওয়া এক শতাব্দী প্রাচীন স্থাপত্য।মন্দিরের গায়ে কাঠের
পাটায় কাঠ খোদাই শিল্পের অপরূপ নিদর্শন ধরা পরে।কুষাণ রাজাদের শিল্পের ছাপ খুঁজে
পাওয়া যায়।দরজাগুলি দামি ধাতুতে মোড়া এবংসুন্দর কারুকাজে ঠাসা।একটা বিষয় লক্ষনীয়,
সেটা হল, মন্দিরে খোদাই করা মোটিফ গুলো ইন্দো তিব্বতি শিল্পের পরিচায়ক।পূর্বে যে এই অঞ্চল
গুলিতেই তিব্বতীয় বাণিজ্য হত,এটা তার প্রমাণ। মন্দির চত্বরটি বেশ বড়।হোম যজ্ঞের
জন্য আলাদা করে স্থান করাআছে।মন্দির আজও ঐতিহ্যবাহী। প্রবেশের আগে সবাইকে মাথা ঢেকে,যেকোনো
চামড়ার জিনিস বাইরে রেখে,হাত পা ধুঁয়ে প্রবেশ করতে হয়।মন্দির থেকে মাউন্ট শ্রীখণ্ড এর বরফ ঢাকা রূপে
মোহিত হতে হয়।
মন্দির থেকে কয়েক হাত দূরত্বেই রাজার বাড়ি।যদিও বাড়ির ভিতরে প্রবেশ নিষেধ। মন্দির
রাজবাড়ি ঘুরে দেখা শেষ করে হোটেলের পথ ধরেছি।অক্টোবর মাসে শরৎ এর ঝকঝকে নীল
আকাশ,মাঝেমাঝে পেজা তুলোর মতো মেঘ,আর তার নীচেই বরফের চাদর মোড়া রূপালী পাহাড়ের সারি।
একটু বেলার দিকে আমরা রওনা দিলাম সাংলার দিকে।সারহান থেকে সাংলা প্রায় ৯৮কিমি পথ।বসপা ভ্যালিই
সাংলা ভ্যালি নামে পরিচিত।বসপা পাহাড় থেকে উৎপত্তি হয়ে ভারত তিব্বত সীমান্ত দিয়ে বয়ে।কারছামের কাছে
এসে বসপা নদী শতলুজ বা শতদ্রু নদীর সাথে এসে মিশেছে।সাংলা ভ্যালি শুরু হয়েছে কারছামের কাছে শেষ
হয়েছে ছিটকূলে।পুরো রাস্তা পাইন,ওক,বার্চ,দেওদার গাছে ঢাকা।প্রায় চার সাড়ে চার ঘন্টা পথ অতিক্রম করে
পৌঁছে গেলাম সাংলাতে।পুরো ভ্যালিটা ফরেস্ট আর বরফের পাহাড়ে ঢাকা।সংলা ঢোকার আগে চোখে
পড়ল বসপা হাইডেল প্রোজেক্ট। ছোট্ট একটা জনপদ। স্টেডিয়াম, ব্যাঙ্ক, স্কুল,মনেস্ট্রি,তিব্বতি বাজার সবই
আছে।আর আছে লোভনীয় সব গাছপালা। আপেল,এপ্রিকট,আখরোট কি নেই!আর আছে বসপা নদীর জলে
সুস্বাদু ট্রাউট মাছ।হোটেলে পৌঁছেই দেখলাম ওদের নিজেদের আপেল বাগানের লাল লাল আপেলের পেটি থরে
থরে সাজানো। মনটা দেখেই ভালো হয়ে গেল।একটু ফ্রেশ হয়েই বেড়িয়ে পড়লাম কামরূ ফোর্ট দেখতে।কিছুটা
গাড়ি গ্রামের পথে গিয়ে থেমে গেল।এরপর পায়ে হাঁটা পথ।পাহাড়ি রাস্তায় চড়াই পথে সিঁড়ির ধাপ উঠে গেছে।
দুপাশে হিমাচলি কাঠের বাড়ি,আপেল বাগান।বেশ খানিকটা পথ পেড়িয়ে পেলাম মন্দির চত্বর। পূজা
হচ্ছে,আরতি হচ্ছে,মন্ত্র উচ্চারিত হচ্ছে।অবাক হতে হয় এটা দেখে যে কটা হিমাচলি মন্দির দেখলাম সেখানে
লক্ষী,বিষ্ণুর বিগ্রহের পাশাপাশি মন্দিরের গায়ে আছে বৌদ্ধ বিভিন্ন প্রতিকৃতি, মোটিফ, বুদ্ধদেবের প্রতিকৃতি।
হিন্দু ও বৌদ্ধ সংস্কৃতির অপরূপ মেলবন্ধন। এছাড়া আছে বদ্রিনাথের মন্দির।মন্দির চত্বর পেরিয়ে আরো কিছুটা
হেঁটে আমরা পৌঁছে গেলাম ফোর্টের দরজায় ভগবান বুদ্ধ আর কামাক্ষা দেবীর প্রতিকৃতি রয়েছে মূল
দরজায়।কারুকাজ করা দরজা দিয়ে ফোর্টে প্রবেশের আগেই দ্বাররক্ষী টুপি দিলেন মাথায় পড়তে,আর দিলেন
কোমরে বাঁধার জন্য রিবন।জুতো খুলে প্রবেশের পর চোখের সামনে যা দেখলাম তা এককথায় অনবদ্য।কাঠের
তৈরি তিন তলা ফোর্ট।চোখ ধাঁধানো খোদাই শিল্প।যা আজকের দিনে দুর্লভ। ফোর্টের ভিতরে সাধারনের প্রবেশ
নিষেধ। শুধুমাত্র পুরোহিতই প্রবেশ করেন কুল দেবতার পূজা করতে।বাইরের বাধানো চত্বর থেকে পুরো সাংলা
দেখতে পাওয়া যায়।পাহাড়ে ঘেরা একটা সাজানো গ্রাম।মেঘে চাদরে ঢাকা পাহাড়ের গায়ে সূর্যের আলোর ছটা
পড়ে এক মোহময় পরিবেশ তৈরি হয়েছে।কিছুসময় কাটিয়ে ফেরার পথ ধরলাম।
সেদিন বেশ ধকল হওয়ায় তাড়াতাড়ি রাতের খাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরদিন ঘুম থেকে উঠেই নজর গেল বরফের পাহাড়চূড়ার দিকে,কালকের থেকে আজ বেশ বরফ
পড়েছে।তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে বেড়িয়ে পড়লাম ভারতবর্ষের শেষ গ্রাম ছিটকূল দেখতে।বসপা নদীর ধারে
ছোট্ট একটা গ্রাম।বাড়িগুলো সব কাঠের বা পাথরের।সীমান্ত গ্রাম বলে ITBP ব্যারাক দেখতে পেলাম।আর
চোখে পড়ল সারি সারি আপেল বাগান।লাল আপেল,গোল্ডেন আপেলে ভরা।সব বাগানেই প্রহরী আছে।গাছে
হাত দিলে আর উপায় নেই।রাস্তার বিভিন্ন জায়গাতেই চোখে পড়ল আপেল গাড়ি করে করে রপ্তানি করা
হচ্ছে।ছিটকূলে এসে গাড়ি থেমে গেল।এবার বেশ খানিকটা বাধানো রাস্তা ধরে পাহাড় থেকে নেমে এসে নদীর
ধারে পৌঁছানো যায়।প্রবল বেগে বয়ে চলেছে বসপা।এই গ্রাম শীতের ছয়মাস বরফে ঢাকা থাকে।দেখতে পেলাম
একটা প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরির কাজ শুরু হ য়েছে।প্রাকৃতিক পরিবেশ খুবই সুন্দর। চারিপাশে পাহাড় ঘেরা
আর মাঝখান দিয়ে নুড়ি পাথর ভেদ করে বয়ে চলেছে নদী।ছিটকূলে ভারতের রাস্তা শেষ।ছোট্ট একটা গ্রাম।
বলা হয় কিন্নর কৈলাস পরিক্রমার পরিসমাপ্তি ঘটে ছিটকূলে এসে।এটি খুবই পবিত্র স্থান তীর্থযাত্রীদের
কাছে।
সাংলা থেকে কল্পার দূরত্ব খুব বেশি নয়।মোটামুটি ৪০কিমি রাস্তা যেতে সময় লাগল মোটামুটি ঘন্টা দুই।কল্পা
যাওয়ার পথে পড়ল রেকংপিও,যাকে স্থানীয়রা অনেকেই পিও নামে ডাকে।বেশ জমজমাট একটা বড় পাহাড়ি
শহর।বাজার,হোটেল,ব্যাঙ্ক, স্কুল,কলেজ,সরকারী অফিস সব কিছুই এখানে।কল্পা যাওয়ার পথে এখানে নেমে
প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র কিনে নেওয়া হল।আর তখনই দেখলাম আর পাঁচটা পাহাড়ি শহরের থেকে এটা
আলাদা।একটা ঝকঝকে উন্নত শহর।বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার জন্য বাস, গাড়ী এখান থেকে পাওয়া
যায়।রেকংপিও থেকে গাড়ি কিছুটা কল্পার পথেযেতেই শহুরে ভাবটা কেটে গেল।আবার পাহাড় তার অনন্য রূপে
ফিরে এল।আপেল বাগান আর আপেলের আড়তের মধ্যে দিয়ে গাড়ি ছুটে চলেছে,আর তার পাশে কাঁচের
জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে রূপালী তবকে মোড়া কিন্নর কৈলাস পর্বত।যদিও অনেকে ভুল করেন এটাকে মাউন্ট
কৈলাসের সাথে।
কিন্তু জেনে রাখা দরকার মাউন্ট কৈলাস তিব্বতে অবস্থিত।ড্রাইভার সাহেবের কাছে জানতে
পারলাম কিন্নর কৈলাসের সর্বচ্চ শৃঙ্গের নাম জোড়কান্ডেন।আমাদের গাড়িটা হোটেলের সামনে এসে থামতেই
মন ভাল হয়ে গেল।সামনেই সেই কিন্নর কৈলাস। হোটেলের ঘর, ছাদ,ব্যলকনী থেকে দেখা যাচ্ছে দুধ সাদা
পাহাড়।পৌঁছতে পৌঁছতে চারটে বেজে গেছিল,তাই ক্যামেরা হাতে অপেক্ষায় বসলাম সূর্যাস্তের।আর তার
কিছুক্ষনের মধ্যেই শুরু হল সেই স্বর্গীয় দৃশ্য,যা ক্যামেরায় বন্দি করার চেয়ে চোখে দেখে উপলব্ধি করাতেই
আনন্দ।
কৈলাসের মাথায় সাদা টিপের মতো চাঁদ।আর ধীরে ধীরে বিপরীত পাহাড়ে সূর্য অস্তগামী, তার রং এর
বিচ্ছুরণ ঘটছে কৈলাসে বুকে।সোনালি, ধূসর, কমলা,লাল।আর তার মাঝে মেঘের দল পাখির মতো উড়ে উড়ে
পাহাড়ের গায়ে মাথায় বসছে।এভাবে বেশকিছক্ষন কেটে গেল।শুরু হয়েছে বরফ ঠান্ডা হাওয়ার দমকা।বেশিক্ষন
আর খোলা ব্যালকনি থাকা গেল না।বেয়ারা এসে চা দিয়ে গেল।ওর কাছেই শুনলাম নীচের গ্রামে নাকি তিন
দিনের একটা উৎসব হচ্ছে।ব্যাস আমাদের আর কে পায়,আবার বেড়িয়ে পড়লাম।কল্পা গ্রামটার নাম আগে
চিনি গ্রাম ছিল।ব্রহ্মা,বিষনু,নারায়ণ, নাগীন,ভগবতী, বুদ্ধ সব ইষ্ট দেবতার পূজা হচ্ছে এই তিন দিনের ওখিয়াম
উৎসবে।ফসল কাটার উৎসব এবং তার সাথে সাথে বরফ পড়ার আনন্দে উৎসব। বেশ খানিকটা সময় কাটিয়ে
হোটেলে ফেরত এলাম।
পরদিন একটু বেলা করে বেড়িয়ে গেলাম কোঠি।,চণ্ডিকাদেবীর মন্দির।চারিপাশ পাহাড়ে ঘেরা আর দেবদারুর
জঙ্গলে ঘেরা পরিবেশ।নিরালায় কিছুটা টাইম কাটিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে এলাম কল্পার হোটেল ছাড়িয়ে রোগি
গ্রামে।নির্জন এক স্বর্গীয় পরিবেশ।যেখানে নিঃশ্বাসের শব্দও শোনা যায়।গরম কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে
আবার দেখলাম কৈলাসের মাথায় চাঁদের তিলক। আজ পূর্ণিমা তিথি।পুরো পাহাড় চাঁদের আলোয় সেজে উঠল।
যেন প্রকৃতি নিজেই উৎসবে মাতোয়ারা।
কিন্নর বেড়াতে এসে যা দেখলাম এখানকার মানুষের জীবন মূলত পর্যটন আর আপেল ব্যবসার উপর
নির্ভরশীল।দেশি পর্যটকদের সাথে সাথে বিদেশি পর্যটকদেরও খুব পছন্দের জায়গা কিন্নর। প্রাথমিক বা
মাধ্যমিক শিক্ষার ব্যবস্থা কিছু জায়গায় থাকলেও উচ্চশিক্ষা বা গুরুতর চিকিৎসার জন্য
সিমলা আসতে হয়।হিমাচল প্রদেশের কিন্নর জেলার রাস্তাঘাট ইন্দো তিব্বত বর্ডার পুলিশ দেখাশোনা করে।রাস্তা
কিছু কিছু জায়গাতে ভাল,আবার কোথাও কোথাও রাস্তা বলে কিছু নেই।পাহাড় কেটে গর্ত করে সুরঙ্গ দিয়ে
পথ।রাস্তার জায়গায় জায়গায় সতর্কবানি লেখা আছে...'Most Treacherous Road in The World'।কিন্তু
গর্বিত হওয়ার মতো বিষয় হল হিমাচল পরিবহনের বাসের আবাধ পরিসর।অপ্রতুল হলেও প্রায় সর্বত্র যাচ্ছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মতোই সুন্দর কিন্নর কিন্নরীরা।সত্যিই যেন ঈশ্বরীয় একটা বাতাবরন।
এবারের মতো কিন্নর ভ্রমণ শেষ।কাল ফেরত যাবার পালা।আবার ব্যস্ত শহুরে জীবন। তাই আজও নিজেকে
কৈলাসপাহাড়ের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি, যাতে অনেকটা অক্সিজেন বুকে ভরে ফিরতে পারি।
প্রয়োজনীয় তথ্যঃ-
হাওড়া থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭.৪০ মিনিটে কালকা মেল ছাড়ে, যেটা ৩২ঘন্টা৫০ মিনিট সময় নিয়ে কালকা
পৌঁছায় ভোর ৪.৩০মিনিটে।সেখান থেকে টয়ট্রেন বা গাড়িতে সিমলা পৌঁছানো যায়।সিমলা থেকে গাড়ি ভাড়া
করে কিন্নর বেড়ানো যায়।সিজিন অনুযায়ী গাড়ির ভাড়া নির্দিষ্ট হয়।






Comments
Post a Comment