hyderabad bhraman bitantto
হায়দ্রাবাদ ডাইরিস @Barnali Roy
আমার কাছে ডাইন আউট মানেই বিরিয়ানি। কলকাতার হেন জায়গা বাকি নেই যে বিরিয়ানি খাওয়া বাকি।
তাই ঠিকই করে নিলাম আগামী বেশ কটাদিন বিরিয়ানি কে নাম।
হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিকই ভেবেছেন।
প্রতিবারই তো পাহাড় আর জঙ্গলে ঘুরি এবার মন হল ভারতের কোন একটা বড় শহর দেখার।
যদিও বেড়াতে গিয়ে খুব একটা ভিড় আমার পছন্দ নয়,তবু যখন ভারতের হাইটেক সিটি আর আমার
কথায় বিরিয়ানির খনি। একটা সুযোগ পেলাম,ভাবলাম ঘুরেই আসি।হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন,আমি হায়দ্রাবাদের
কথাই বলছি।আগেই শুনেছিলাম এখানে নাকি এমন সব উঁচু উচুঁ বিল্ডিং আছে,যা নাকি পৃথিবীরর পেল্লাই সব
বিল্ডিং এর সাথে পাল্লা দিতে পারে।বন্ধুর অফিসের কাজ আর আমারও পূজার ছুটি।যেই ভাবনা সেই কাজ
টিকিট কাটা হল ইস্টকোস্ট এক্সপ্রেসে।আর তার সাথে যেটা করলাম কলকাতার অন্ধ্রপ্রদেশ টুরিজমের
অফিস থেকে বুক করে নিলাম হায়দ্রাবাদ ঘুরে দেখার দুটো ট্যুর।একটা লোকাল সাইট সিন,আর অন্যটা হল
রামোজি ফিল্মসিটি ট্যুর।
নির্ধারিত দিনে সকাল সকাল দুজনে চেপে বসলাম ট্রেনে।তারপর পুরো ৩০ ঘন্টা পার করে পৌঁছালাম
তেলেঙ্গানা র রাজধানী হায়দ্রাবাদ।ভারতের অন্যতম বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ন শহর। এর যমজ শহর
সেকেন্দ্রাবাদ।মুশি নদীর তীরবর্তী শহর হায়দ্রাবাদ আর সেকেন্দ্রাবাদকে আলাদা করেছে হুসেন সাগর
লেক।১৫৬২সালে হজরত হুজরত হুসেন শাহ ওয়ালি এই লেকটি তৈরি করেছিলেন স্থানীয় জল কষ্ট মেটানোরর
জন্য।আমাদের হোটেলটা হায়দ্রাবাদের জেনারেল বাজার এলাকায়।স্টেশন থেকে অটো ধরলাম হোটেলে
আসার জন্য ।আসার পথে দূর থেকে দেখে নিলাম হুসেন সাগরের বুকে সেই বিখ্যাত বৌদ্ধ মূর্তি।এই সময়টা
সব শহরের মতই উৎসবমুখর হায়দ্রাবাদ। এখানে হিন্দু,মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের বাস।তাই
দূর্গাপুজা,ঈদ,বাথুকাম্মা সব উৎসবেই মেতে উঠেছে শহর।এই প্রথম শুনলাম আর দেখলাম দক্ষিণী উৎসব
বাথুকাম্মার কথা।পুরো শহর সেজে উঠেছে মরশুমি নানা রং এর ফুলে।আমাদের অটোওয়ালা দাদা ভাঙ্গা ভাঙ্গা
হিন্দিতে বলল সবার সবার সুস্থতা আর সমৃদ্ধি কামনা করে এই উৎসব। রাস্তার মোড়ে মোড়ে গোপুরমের আদলে
ফুলের রাশি দিয়ে সাজানো আছে।
হোটেলে এসে পৌঁছিয়েছি।ব্রেকফাস্ট সেরে বন্ধু গেল অফিসে।আজ কাজ হলে,আগামী দুদিন আমাদের
টইটই।বন্ধুর সাথে আমিও বেড়োলাম পায়ে হেঁটে শহরটা দেখতে।আমাদের হোটেলের কাছেই বিশাল মার্কেট।
এখানকার স্থানীয় নাম জেনারেল বাজার।এম.জি রোড মার্কেট ও কেউ কেউ বলেন।হোলসেল ও পাইকারি
হরেক জিনিস এখানে পাওয়া যায়।সেটা জামাকাপড় থেকে খাবারদাবার। বিশাল বিশাল মুক্তোর দোকান
দেখলাম।হায়দ্রাবাদি মুক্তোর খ্যাতি জগৎ জোড়া।ঘুরতে ঘুরতে বাজারের যত ভেতরে যাচ্ছি হায়দ্রাবাদি সিল্ক
শাড়ি,গয়না,জরির কাজ এসব চোখে পড়ছে।এবার খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে গেলাম আমার হায়দ্রাবাদ আসার
অন্যতম আরেকটি আকর্ষন হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি। এতকাল যা কানে শুনেছি আজ তো সেটা টেষ্ট করতেই
হচ্ছে।ঢুকে পড়লাম একটি নামী রেস্তোরাঁতে।স্বাদে,গন্ধে নবাবিয়ানা তো বটেই।কিন্তু কলকাতার বিরিয়ানির সাথে
এর রূপ, স্বাদ সবই আলাদা। একটু ভিন্ন স্বাদের তবুও লোভনীয়। যাহোক বিরিয়ানি দিয়েই দুপুরের খাওয়াটা
হল।
ফিরে এসে ঘুম দিয়েছিলাম খেয়ালই করিনি ঘড়িতে রাত ন টা।উঠে দেখি বন্ধুটি ফিরে বিশ্রাম নিচ্ছে।দুজনে
একটু আড্ডা দিলাম।তাড়াতাড়ি রাতের খাবার সারলাম ধোসা দিয়ে।দক্ষিণ ভারতে এলে আমার এই এক
সমস্যা।সব কিছুতেই টক টক।তাই ঠিক করেছি যত দিন থাকবো ধোসাই খাবো।
পর দিন সকাল সাতটার মধ্যে পৌঁছে গেলাম টুরিজিমের অফিসে।গিয়ে দেখি আরো সব টুরিস্টরাও অপেক্ষায়
আছে।সবার রিপোর্টং শেষ করে ৮টা নাগাদ বাস রওনা দিল।একটা মজার বিষয় হল প্যাকেজের মধ্যে
ব্রেকফাস্ট আর লাঞ্চ ধরা। পাওরুটি টোস্ট খেতে খেতে শুনছিলাম গাইডের কথা।আমরা প্রথমেই চলেছি
গোলকোন্ডা ফোর্টের দিকে।
মূল শহর থেকে প্রায় ১১কিমি দূরে এই দূর্গটি অবস্থিত। এই দূর্গটি নির্মাণ করেন
ওরাঙ্গেলের কাকাট্টিয়াস রা। পরে এটি অধিগ্রহণ করে হায়দ্রাবাদের কুতুবশাহি নবাবরা।এখানে ১৫১৮-
১৬৮৭সাল পর্যন্ত কুতুব শাহি বংশের রাজধানী ছিল।এই দূর্গটি তার অত্যাধুনিক আর্কিটেকচার ও আর
গঠনশৈলীর জন্য বিখ্যাত।এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল,দেওয়ালের কান।ছোটবেলা শুনেছিলাম দেয়াওয়ালের কান
আছে।এই দূর্গে সত্যিই দেখলাম এক দেওয়ালে ফিসফিস করে কথা বললে অন্য দেওয়ালে শোনা যায়।প্রতিটি
আর্চের উপর পদ্মফুলের মত করা আছে,ওর নিচে দাঁড়িয়ে হাত তালি দিলে দূর্গের যে কোন প্রান্তে তা শোনা
যাবে।এক মহল থেকে অন্য মহলে যোগাযোগের জন্যই এসব ব্যবস্থা।৮০০বছরের প্রাচীন এই দূর্গ কত ইতিহাস
বহন করে নিয়ে যাচ্ছে।বহু জয়,পরাজয়ের সাক্ষী এই দূর্গ। কিছু কিছু স্থানে প্রায় ধ্বংস প্রাপ্ত।বিশাল ব্যাপ্তি এর।দূর্গের
ভাঙা দেওয়াল,স্তম্ভ, মাঝেমাঝে বাগিচা, আবার কোথাও সিঁড়ি, চাতাল।শুনলাম সম্প্রতি বেশ
কিছু হিন্দি, দক্ষিণী সিনেমার শুটিং ও হয়েছে।গোলকোন্ডায় নাকি বিখ্যাত হিরের খনি ছিল।কোহিনূরের মত
বিখ্যাত সব হিরে এখানে পাওয়া গেছে অতীতে।
ফেরার পথে দেখে নিলাম মাধাপুরের শিল্প রামম।এটা একটা শিল্পগ্রাম।সুন্দর সব হাতের কাজের পসরা নিয়ে
শিল্পীরা বসে আছে।কেউ কেউ ওখানে বসেই হাতের কাজ করছে।মাটির সামগ্রী থেকে,সুতোর কাজ,মুখোশ,
গয়না,সব কিছুর সম্ভার।
বাস চলেছে। সুরেলা একটা দক্ষিণী গান বাজচ্ছে।বাস দাঁড়ালো ভারতের অন্যতম বৃহত্তম ও সমৃদ্ধ মিউজিয়ামের সামনে সালারজং মিউজিয়াম।
সপ্তম নিজামের পূর্বতন প্রধান মন্ত্রি নবাব মীর ইউসুফ আলি
খান, যিনি সালারজং তৃতীয় নামে পরিচিত(১৮৮৯-১৯৪৯),তিনি ও তাঁর পরিবার জাপান,চিন,বর্মা,ইউরোপ,
পার্শিয়া,মিশর,নেপাল, ভারত, আমেরিকা থেকে ভাষ্কর্য,স্থাপত্য,চিত্রকলা,পাণ্ডুলিপি, সেরামিক,অস্ত্র, ফার্নিচার, ঘড়ি,
পোশাক,ধাতব শিল্প,কার্পেট ইত্যাদি সংগ্রহ করেন,আর সেগুলোই একটা মিউজিয়ামের উপাদান।এই
মিউজিয়ামের দুটি তলায় মোট ৩৭টি গ্যালারী আছে।ঘুরতে ঘুরতে পা ব্যাথা হয়ে যাচ্ছে কিন্তু দেখা শেষ হচ্ছে না।
এই মিউজিয়ামের বিশেষ বিশেষ যে জিনিসগুলো দেখা যায় সেগুলো হল রাজা রবি বর্মার ছবি,ঔরঙ্গজেবের
তরবারি,টিপুসুলতানের আলমারি,হিরে ও সোনা খচিত টিফিন বাক্স,ভ্যেইল্ড রেবেকার মত ভাষ্কর্য ইত্যাদি।এই
মিউজিয়ামের নীচতলায় একটা ক্লক শো হয় প্রতি ঘন্টায়।এটি ব্রিটিশ ব্রাকেট ক্লক।১৮শতকে এটা এখানে
আসে।অপূর্ব সুন্দর কারুকাজ করা মিউজিকাল ঘড়ি এটি।আমরা দেখলাম সেই শো।
মিউজিয়াম দেখতে দেখতে বেলা দুটো বেজে গেল।বাসে বসেই উপমা,দই বড়া দিয়ে সেরে নিলাম দুপুরের
খাবার।
আবার আমাদের যাত্রা শুরু।বাস যাচ্ছে আর গাইডের কাছেই শুনছি হায়দ্রাবাদ কে নিয়ে নানান গল্প।শুনেছি
হায়দ্রাবাদকে নাকি নিজাম নগরী বলা হয়।জিজ্ঞাসা করেই ফেললাম কেন?গাইড সুন্দর গুছিয়ে জবাব দিলেন
নিজাম শব্দটা এসেছে নাকি নিজাম উল মুল্ক থেকে।হায়দ্রাবাদে স্বায়াত্ত্বশাসন কায়েক হওয়ার পর থেকে এই
রাজত্বের যিনি প্রশাসনিক সর্বেসর্বা তিনিই নিজাম বলে পরিচিত হন।
গল্প শুনতে বাস এসে পৌঁছেছে নিজাম প্যালেস এ।বর্তমানে এটা নিজামদের ব্যবহৃত জিনিশপত্র দিয়ে সাজানো
একটা সংগ্রহশালা।
নিজামের ব্যবহৃত সিংহাসন, যা নাকি সোনা আর চন্দন পালিশে গড়া,তার ও বেগমদের
ব্যবহৃত পোশাকআশাক, থালাবাসন, জুতো, উপহার সামগ্রী আরো নানান জিনিস।কতটা শৌখিন ছিলেন এরা
তার নমুনা চোখের সামনে।
এবার গন্তব্য চৌমহল্লা প্যালেস।দূর থেকেই দেখানো হল।মোট ৪টি মহল নিয়ে এটা তৈরি।এখন নানা
প্রশাসনিক অনুষ্ঠান হয়।
হায়দ্রাবাদ শহরের প্রাণকেন্দ্র হল লাড বাজার বা চারমিনার বাজার।এই বাজারের কাছাকাছি অবস্থিত
মক্কা মসজিদ, চারমিনার। গাড়ি পার্কিং এর অসুবিধা থাকায় একটু দূরেই পার্কিং হল।আমরা হেঁটে ঘুরলাম
পুরো এলাকাটা।গাইডের কাছেই শুনলাম কুতুব শাহি বংশের ৫ম নবান মহঃ কুলি কুতুব শাহ ধর্মীয় পবিত্রতা
মেনে মক্কা থেকে ইট আনিয়ে এই মসজিদের আর্চ বানিয়েছিলেন। যদিও তাঁর জীবদ্দশায় কাজ শেষ হয়নি,সেটা
ঔরঙ্গজেব করেছিলেন।বিশাল মসজিদ চত্ত্বর।অপূর্ব সব জাফরিকাটা।
এবার হায়দ্রাবাদের বিশ্ববন্দিত আইকন...চারমিনার।
বলা হয় কুলি কুতুব শাহ গোলকোন্ডা থেকে নিজের
রাজধানী হায়দ্রাবাদে স্থানান্তর করার পর বিশ্বের কাছে হায়দ্রাবাদের পরিচিতি তুলে ধরতে এই চারমিনার
তৈরি করেন। আবার অনেকের মতে তাঁর হিন্দু স্ত্রী বাগমতি ইসলাম ধর্মে দিক্ষিত হলে,এই সৌধটি নির্মিতি হয়।
এর পিছনের ইতিহাস যাই হোক না কেন চারমিনার এর গঠন শৈলী তাক লাগানোর মতো।ইন্দো-ইসলামিক
রীতির সাথে পার্শিয়ান আর্কিটেকচারের সংমিশ্রণ। দেওয়ালের কারুকাজ,ঘড়ি,আর্চ,নকশা,মিনারের গঠন সবই
অনবদ্য।দুটি তলা ঘুরে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে এলাম লাড বাজার এ।একে কেউ কেউ চুড়ি বাজারও
বলে।রং বেরং এর বেলোয়ারি চুড়ি।মিনে করা,নকশা কাটা,মনিমুক্ত খচিত। চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার মত।তার সাথে
আছে অন্যান্য গয়না,জরির পোশাক।আমরা সব ঘুরে ঘুরে দেখলাম। অনেকে কেনাকাটা করল।এই বাজারের
আরেকটি জিনিস হল হায়দ্রাবাদের বিখ্যাত বেকারির সব খাবার।স্বাদে গন্ধে যার জুড়ি মেলা ভার।
গাইড তাড়া দিয়ে বাসে ওঠালেন।ওদিকে আবার লুম্বিনি পার্কের লেজার শো শুরু হয়ে যাবে।
গত কাল আসার পথে যে হুসেন সাগর দেখেছিলাম আজ সেখানে নেমে বোটে করে পৌঁছেগেলাম
সেই বিখ্যাত এক পাথরের ভাষ্কর্য বৌদ্ধমূর্তি টির কাছে।এটির উচ্চতা ১৭মিটার,আর ওজন ৩২০টন।
পাশেই এন টি আর গার্ডেন।এবার শুরু হল জলের বুকে রকমারি আলোর খেলা।লেজার শো।সাথে মিউজিক।
অসাধারণ এক আবহে কিচ্ছুক্ষণ পর ফিরে এলাম হোটেলে।
আজ ভিষন ক্লান্ত আবার কাল ভোর ভোর বেড়োতে হবে,রামোজি ফিল্মসিটি দেখতে যাব।তাই খাওয়া সেরে ঘুম
দিলাম।
পরদিনও নির্ধারিত সময়ে চলে গেলাম টুরিজমের অফিসে।শহর থেকে বেশ খানিকদূর এক পাহাড়ের
কোলে এই নগরী প্রায় ২০০০একর জমি নিয়ে।বাস থেকে নেমে লাগেজ জমা করে,সিকিউরিটি চেকিং এর পর
ঢোকার সুযোগ হল।বেলা ১০টায় একটা অনবদ্য আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে খুলে গেল দরজা।ঢুকে তো
গেলাম,এবার কি করব,কোথায় আগে যাব। সবই দারুন আকর্ষনীয়।একটা লাল খোলা বাসে চেপে দেখে নিলাম
পুরো শহরটা।কত রকমের বাড়ি দেশী বিদেশি, ফোয়ারা,বিখ্যাত স্মৃতি স্তম্ভের সব রেপ্লিকা,বাগান,ঝরনা,
চিড়িয়াখানা, আরো কত কি।দু এক জাগায় দেখলাম সিনেমার শুটিং ও হচ্ছে।রামায়ণ মহাভারতের সেট তৈরি।
বিখ্যাত সব সিনেমার শুটিং হয়েছে।দেখছি আর চেনা চেনা ঠেকছে।এক একটা দক্ষিণী গ্রাম,উত্তর ভারতের শহর
একটা আস্ত রেল স্টেশন, এয়ারপোর্ট, পাহাড়,নদী,জঙ্গল কি নেই সেখানে।এরপর দেখলাম বিভিন্ন শো।যেমন
ব্যলে শো,ফাইটিং শো, ড্রিমল্যান্ড শো,বিদেশি লেজার শো,গোস্ট শো।
বাচ্চাদের আকর্ষন তো হবেই নানান রকমের
সব খেলনা,রাইডস।আমরা যারা বড় তাদেরই লোভ সামলানো দায়।এর ভিতরেই আছে ফুড কোর্ট,বিশ্রামের
জায়গা।তবে আমি নিশ্চিত যে কেউ ই বিশ্রামের অবকাশ পাবেন না।কি করে যে বিকেল হয়ে গেল বুঝতেই
পারিনি।এবার ফেরার পালা।
হায়দ্রাবাদ এক সম্পূর্ণ প্যাকেজ শহর।নানান ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের বাস এখানে।থাকাখাওয়া,ঘুরে বেড়ানো
সব কিছুতেই বিশেষত্ব আর নবাবিয়ানার ছোঁয়া।প্রযুক্তি, বাণিজ্য, যোগাযোগ সব কিছুতেই এডভান্সড। সত্যিই
সার্থক হাইটেক সিটি।
আমার কাছে ডাইন আউট মানেই বিরিয়ানি। কলকাতার হেন জায়গা বাকি নেই যে বিরিয়ানি খাওয়া বাকি।
তাই ঠিকই করে নিলাম আগামী বেশ কটাদিন বিরিয়ানি কে নাম।
হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিকই ভেবেছেন।
প্রতিবারই তো পাহাড় আর জঙ্গলে ঘুরি এবার মন হল ভারতের কোন একটা বড় শহর দেখার।
যদিও বেড়াতে গিয়ে খুব একটা ভিড় আমার পছন্দ নয়,তবু যখন ভারতের হাইটেক সিটি আর আমার
কথায় বিরিয়ানির খনি। একটা সুযোগ পেলাম,ভাবলাম ঘুরেই আসি।হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন,আমি হায়দ্রাবাদের
কথাই বলছি।আগেই শুনেছিলাম এখানে নাকি এমন সব উঁচু উচুঁ বিল্ডিং আছে,যা নাকি পৃথিবীরর পেল্লাই সব
বিল্ডিং এর সাথে পাল্লা দিতে পারে।বন্ধুর অফিসের কাজ আর আমারও পূজার ছুটি।যেই ভাবনা সেই কাজ
টিকিট কাটা হল ইস্টকোস্ট এক্সপ্রেসে।আর তার সাথে যেটা করলাম কলকাতার অন্ধ্রপ্রদেশ টুরিজমের
অফিস থেকে বুক করে নিলাম হায়দ্রাবাদ ঘুরে দেখার দুটো ট্যুর।একটা লোকাল সাইট সিন,আর অন্যটা হল
রামোজি ফিল্মসিটি ট্যুর।
নির্ধারিত দিনে সকাল সকাল দুজনে চেপে বসলাম ট্রেনে।তারপর পুরো ৩০ ঘন্টা পার করে পৌঁছালাম
তেলেঙ্গানা র রাজধানী হায়দ্রাবাদ।ভারতের অন্যতম বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ন শহর। এর যমজ শহর
সেকেন্দ্রাবাদ।মুশি নদীর তীরবর্তী শহর হায়দ্রাবাদ আর সেকেন্দ্রাবাদকে আলাদা করেছে হুসেন সাগর
লেক।১৫৬২সালে হজরত হুজরত হুসেন শাহ ওয়ালি এই লেকটি তৈরি করেছিলেন স্থানীয় জল কষ্ট মেটানোরর
জন্য।আমাদের হোটেলটা হায়দ্রাবাদের জেনারেল বাজার এলাকায়।স্টেশন থেকে অটো ধরলাম হোটেলে
আসার জন্য ।আসার পথে দূর থেকে দেখে নিলাম হুসেন সাগরের বুকে সেই বিখ্যাত বৌদ্ধ মূর্তি।এই সময়টা
সব শহরের মতই উৎসবমুখর হায়দ্রাবাদ। এখানে হিন্দু,মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের বাস।তাই
দূর্গাপুজা,ঈদ,বাথুকাম্মা সব উৎসবেই মেতে উঠেছে শহর।এই প্রথম শুনলাম আর দেখলাম দক্ষিণী উৎসব
বাথুকাম্মার কথা।পুরো শহর সেজে উঠেছে মরশুমি নানা রং এর ফুলে।আমাদের অটোওয়ালা দাদা ভাঙ্গা ভাঙ্গা
হিন্দিতে বলল সবার সবার সুস্থতা আর সমৃদ্ধি কামনা করে এই উৎসব। রাস্তার মোড়ে মোড়ে গোপুরমের আদলে
ফুলের রাশি দিয়ে সাজানো আছে।
হোটেলে এসে পৌঁছিয়েছি।ব্রেকফাস্ট সেরে বন্ধু গেল অফিসে।আজ কাজ হলে,আগামী দুদিন আমাদের
টইটই।বন্ধুর সাথে আমিও বেড়োলাম পায়ে হেঁটে শহরটা দেখতে।আমাদের হোটেলের কাছেই বিশাল মার্কেট।
এখানকার স্থানীয় নাম জেনারেল বাজার।এম.জি রোড মার্কেট ও কেউ কেউ বলেন।হোলসেল ও পাইকারি
হরেক জিনিস এখানে পাওয়া যায়।সেটা জামাকাপড় থেকে খাবারদাবার। বিশাল বিশাল মুক্তোর দোকান
দেখলাম।হায়দ্রাবাদি মুক্তোর খ্যাতি জগৎ জোড়া।ঘুরতে ঘুরতে বাজারের যত ভেতরে যাচ্ছি হায়দ্রাবাদি সিল্ক
শাড়ি,গয়না,জরির কাজ এসব চোখে পড়ছে।এবার খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে গেলাম আমার হায়দ্রাবাদ আসার
অন্যতম আরেকটি আকর্ষন হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি। এতকাল যা কানে শুনেছি আজ তো সেটা টেষ্ট করতেই
হচ্ছে।ঢুকে পড়লাম একটি নামী রেস্তোরাঁতে।স্বাদে,গন্ধে নবাবিয়ানা তো বটেই।কিন্তু কলকাতার বিরিয়ানির সাথে
এর রূপ, স্বাদ সবই আলাদা। একটু ভিন্ন স্বাদের তবুও লোভনীয়। যাহোক বিরিয়ানি দিয়েই দুপুরের খাওয়াটা
হল।
ফিরে এসে ঘুম দিয়েছিলাম খেয়ালই করিনি ঘড়িতে রাত ন টা।উঠে দেখি বন্ধুটি ফিরে বিশ্রাম নিচ্ছে।দুজনে
একটু আড্ডা দিলাম।তাড়াতাড়ি রাতের খাবার সারলাম ধোসা দিয়ে।দক্ষিণ ভারতে এলে আমার এই এক
সমস্যা।সব কিছুতেই টক টক।তাই ঠিক করেছি যত দিন থাকবো ধোসাই খাবো।
পর দিন সকাল সাতটার মধ্যে পৌঁছে গেলাম টুরিজিমের অফিসে।গিয়ে দেখি আরো সব টুরিস্টরাও অপেক্ষায়
আছে।সবার রিপোর্টং শেষ করে ৮টা নাগাদ বাস রওনা দিল।একটা মজার বিষয় হল প্যাকেজের মধ্যে
ব্রেকফাস্ট আর লাঞ্চ ধরা। পাওরুটি টোস্ট খেতে খেতে শুনছিলাম গাইডের কথা।আমরা প্রথমেই চলেছি
গোলকোন্ডা ফোর্টের দিকে।
মূল শহর থেকে প্রায় ১১কিমি দূরে এই দূর্গটি অবস্থিত। এই দূর্গটি নির্মাণ করেন
ওরাঙ্গেলের কাকাট্টিয়াস রা। পরে এটি অধিগ্রহণ করে হায়দ্রাবাদের কুতুবশাহি নবাবরা।এখানে ১৫১৮-
১৬৮৭সাল পর্যন্ত কুতুব শাহি বংশের রাজধানী ছিল।এই দূর্গটি তার অত্যাধুনিক আর্কিটেকচার ও আর
গঠনশৈলীর জন্য বিখ্যাত।এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল,দেওয়ালের কান।ছোটবেলা শুনেছিলাম দেয়াওয়ালের কান
আছে।এই দূর্গে সত্যিই দেখলাম এক দেওয়ালে ফিসফিস করে কথা বললে অন্য দেওয়ালে শোনা যায়।প্রতিটি
আর্চের উপর পদ্মফুলের মত করা আছে,ওর নিচে দাঁড়িয়ে হাত তালি দিলে দূর্গের যে কোন প্রান্তে তা শোনা
যাবে।এক মহল থেকে অন্য মহলে যোগাযোগের জন্যই এসব ব্যবস্থা।৮০০বছরের প্রাচীন এই দূর্গ কত ইতিহাস
বহন করে নিয়ে যাচ্ছে।বহু জয়,পরাজয়ের সাক্ষী এই দূর্গ। কিছু কিছু স্থানে প্রায় ধ্বংস প্রাপ্ত।বিশাল ব্যাপ্তি এর।দূর্গের
ভাঙা দেওয়াল,স্তম্ভ, মাঝেমাঝে বাগিচা, আবার কোথাও সিঁড়ি, চাতাল।শুনলাম সম্প্রতি বেশ
কিছু হিন্দি, দক্ষিণী সিনেমার শুটিং ও হয়েছে।গোলকোন্ডায় নাকি বিখ্যাত হিরের খনি ছিল।কোহিনূরের মত
বিখ্যাত সব হিরে এখানে পাওয়া গেছে অতীতে।
ফেরার পথে দেখে নিলাম মাধাপুরের শিল্প রামম।এটা একটা শিল্পগ্রাম।সুন্দর সব হাতের কাজের পসরা নিয়ে
শিল্পীরা বসে আছে।কেউ কেউ ওখানে বসেই হাতের কাজ করছে।মাটির সামগ্রী থেকে,সুতোর কাজ,মুখোশ,
গয়না,সব কিছুর সম্ভার।
বাস চলেছে। সুরেলা একটা দক্ষিণী গান বাজচ্ছে।বাস দাঁড়ালো ভারতের অন্যতম বৃহত্তম ও সমৃদ্ধ মিউজিয়ামের সামনে সালারজং মিউজিয়াম।
সপ্তম নিজামের পূর্বতন প্রধান মন্ত্রি নবাব মীর ইউসুফ আলি
খান, যিনি সালারজং তৃতীয় নামে পরিচিত(১৮৮৯-১৯৪৯),তিনি ও তাঁর পরিবার জাপান,চিন,বর্মা,ইউরোপ,
পার্শিয়া,মিশর,নেপাল, ভারত, আমেরিকা থেকে ভাষ্কর্য,স্থাপত্য,চিত্রকলা,পাণ্ডুলিপি, সেরামিক,অস্ত্র, ফার্নিচার, ঘড়ি,
পোশাক,ধাতব শিল্প,কার্পেট ইত্যাদি সংগ্রহ করেন,আর সেগুলোই একটা মিউজিয়ামের উপাদান।এই
মিউজিয়ামের দুটি তলায় মোট ৩৭টি গ্যালারী আছে।ঘুরতে ঘুরতে পা ব্যাথা হয়ে যাচ্ছে কিন্তু দেখা শেষ হচ্ছে না।
এই মিউজিয়ামের বিশেষ বিশেষ যে জিনিসগুলো দেখা যায় সেগুলো হল রাজা রবি বর্মার ছবি,ঔরঙ্গজেবের
তরবারি,টিপুসুলতানের আলমারি,হিরে ও সোনা খচিত টিফিন বাক্স,ভ্যেইল্ড রেবেকার মত ভাষ্কর্য ইত্যাদি।এই
মিউজিয়ামের নীচতলায় একটা ক্লক শো হয় প্রতি ঘন্টায়।এটি ব্রিটিশ ব্রাকেট ক্লক।১৮শতকে এটা এখানে
আসে।অপূর্ব সুন্দর কারুকাজ করা মিউজিকাল ঘড়ি এটি।আমরা দেখলাম সেই শো।
মিউজিয়াম দেখতে দেখতে বেলা দুটো বেজে গেল।বাসে বসেই উপমা,দই বড়া দিয়ে সেরে নিলাম দুপুরের
খাবার।
আবার আমাদের যাত্রা শুরু।বাস যাচ্ছে আর গাইডের কাছেই শুনছি হায়দ্রাবাদ কে নিয়ে নানান গল্প।শুনেছি
হায়দ্রাবাদকে নাকি নিজাম নগরী বলা হয়।জিজ্ঞাসা করেই ফেললাম কেন?গাইড সুন্দর গুছিয়ে জবাব দিলেন
নিজাম শব্দটা এসেছে নাকি নিজাম উল মুল্ক থেকে।হায়দ্রাবাদে স্বায়াত্ত্বশাসন কায়েক হওয়ার পর থেকে এই
রাজত্বের যিনি প্রশাসনিক সর্বেসর্বা তিনিই নিজাম বলে পরিচিত হন।
গল্প শুনতে বাস এসে পৌঁছেছে নিজাম প্যালেস এ।বর্তমানে এটা নিজামদের ব্যবহৃত জিনিশপত্র দিয়ে সাজানো
একটা সংগ্রহশালা।
নিজামের ব্যবহৃত সিংহাসন, যা নাকি সোনা আর চন্দন পালিশে গড়া,তার ও বেগমদের
ব্যবহৃত পোশাকআশাক, থালাবাসন, জুতো, উপহার সামগ্রী আরো নানান জিনিস।কতটা শৌখিন ছিলেন এরা
তার নমুনা চোখের সামনে।
এবার গন্তব্য চৌমহল্লা প্যালেস।দূর থেকেই দেখানো হল।মোট ৪টি মহল নিয়ে এটা তৈরি।এখন নানা
প্রশাসনিক অনুষ্ঠান হয়।
হায়দ্রাবাদ শহরের প্রাণকেন্দ্র হল লাড বাজার বা চারমিনার বাজার।এই বাজারের কাছাকাছি অবস্থিত
মক্কা মসজিদ, চারমিনার। গাড়ি পার্কিং এর অসুবিধা থাকায় একটু দূরেই পার্কিং হল।আমরা হেঁটে ঘুরলাম
পুরো এলাকাটা।গাইডের কাছেই শুনলাম কুতুব শাহি বংশের ৫ম নবান মহঃ কুলি কুতুব শাহ ধর্মীয় পবিত্রতা
মেনে মক্কা থেকে ইট আনিয়ে এই মসজিদের আর্চ বানিয়েছিলেন। যদিও তাঁর জীবদ্দশায় কাজ শেষ হয়নি,সেটা
ঔরঙ্গজেব করেছিলেন।বিশাল মসজিদ চত্ত্বর।অপূর্ব সব জাফরিকাটা।
এবার হায়দ্রাবাদের বিশ্ববন্দিত আইকন...চারমিনার।
বলা হয় কুলি কুতুব শাহ গোলকোন্ডা থেকে নিজের
রাজধানী হায়দ্রাবাদে স্থানান্তর করার পর বিশ্বের কাছে হায়দ্রাবাদের পরিচিতি তুলে ধরতে এই চারমিনার
তৈরি করেন। আবার অনেকের মতে তাঁর হিন্দু স্ত্রী বাগমতি ইসলাম ধর্মে দিক্ষিত হলে,এই সৌধটি নির্মিতি হয়।
এর পিছনের ইতিহাস যাই হোক না কেন চারমিনার এর গঠন শৈলী তাক লাগানোর মতো।ইন্দো-ইসলামিক
রীতির সাথে পার্শিয়ান আর্কিটেকচারের সংমিশ্রণ। দেওয়ালের কারুকাজ,ঘড়ি,আর্চ,নকশা,মিনারের গঠন সবই
অনবদ্য।দুটি তলা ঘুরে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে এলাম লাড বাজার এ।একে কেউ কেউ চুড়ি বাজারও
বলে।রং বেরং এর বেলোয়ারি চুড়ি।মিনে করা,নকশা কাটা,মনিমুক্ত খচিত। চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার মত।তার সাথে
আছে অন্যান্য গয়না,জরির পোশাক।আমরা সব ঘুরে ঘুরে দেখলাম। অনেকে কেনাকাটা করল।এই বাজারের
আরেকটি জিনিস হল হায়দ্রাবাদের বিখ্যাত বেকারির সব খাবার।স্বাদে গন্ধে যার জুড়ি মেলা ভার।
গাইড তাড়া দিয়ে বাসে ওঠালেন।ওদিকে আবার লুম্বিনি পার্কের লেজার শো শুরু হয়ে যাবে।
গত কাল আসার পথে যে হুসেন সাগর দেখেছিলাম আজ সেখানে নেমে বোটে করে পৌঁছেগেলাম
সেই বিখ্যাত এক পাথরের ভাষ্কর্য বৌদ্ধমূর্তি টির কাছে।এটির উচ্চতা ১৭মিটার,আর ওজন ৩২০টন।
পাশেই এন টি আর গার্ডেন।এবার শুরু হল জলের বুকে রকমারি আলোর খেলা।লেজার শো।সাথে মিউজিক।
অসাধারণ এক আবহে কিচ্ছুক্ষণ পর ফিরে এলাম হোটেলে।
আজ ভিষন ক্লান্ত আবার কাল ভোর ভোর বেড়োতে হবে,রামোজি ফিল্মসিটি দেখতে যাব।তাই খাওয়া সেরে ঘুম
দিলাম।
পরদিনও নির্ধারিত সময়ে চলে গেলাম টুরিজমের অফিসে।শহর থেকে বেশ খানিকদূর এক পাহাড়ের
কোলে এই নগরী প্রায় ২০০০একর জমি নিয়ে।বাস থেকে নেমে লাগেজ জমা করে,সিকিউরিটি চেকিং এর পর
ঢোকার সুযোগ হল।বেলা ১০টায় একটা অনবদ্য আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে খুলে গেল দরজা।ঢুকে তো
গেলাম,এবার কি করব,কোথায় আগে যাব। সবই দারুন আকর্ষনীয়।একটা লাল খোলা বাসে চেপে দেখে নিলাম
পুরো শহরটা।কত রকমের বাড়ি দেশী বিদেশি, ফোয়ারা,বিখ্যাত স্মৃতি স্তম্ভের সব রেপ্লিকা,বাগান,ঝরনা,
চিড়িয়াখানা, আরো কত কি।দু এক জাগায় দেখলাম সিনেমার শুটিং ও হচ্ছে।রামায়ণ মহাভারতের সেট তৈরি।
বিখ্যাত সব সিনেমার শুটিং হয়েছে।দেখছি আর চেনা চেনা ঠেকছে।এক একটা দক্ষিণী গ্রাম,উত্তর ভারতের শহর
একটা আস্ত রেল স্টেশন, এয়ারপোর্ট, পাহাড়,নদী,জঙ্গল কি নেই সেখানে।এরপর দেখলাম বিভিন্ন শো।যেমন
ব্যলে শো,ফাইটিং শো, ড্রিমল্যান্ড শো,বিদেশি লেজার শো,গোস্ট শো।
বাচ্চাদের আকর্ষন তো হবেই নানান রকমের
সব খেলনা,রাইডস।আমরা যারা বড় তাদেরই লোভ সামলানো দায়।এর ভিতরেই আছে ফুড কোর্ট,বিশ্রামের
জায়গা।তবে আমি নিশ্চিত যে কেউ ই বিশ্রামের অবকাশ পাবেন না।কি করে যে বিকেল হয়ে গেল বুঝতেই
পারিনি।এবার ফেরার পালা।
হায়দ্রাবাদ এক সম্পূর্ণ প্যাকেজ শহর।নানান ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের বাস এখানে।থাকাখাওয়া,ঘুরে বেড়ানো
সব কিছুতেই বিশেষত্ব আর নবাবিয়ানার ছোঁয়া।প্রযুক্তি, বাণিজ্য, যোগাযোগ সব কিছুতেই এডভান্সড। সত্যিই
সার্থক হাইটেক সিটি।








Comments
Post a Comment